দেশ বাণী ডেস্ক

ঢামেক মর্গে লাশের সারি | Db News

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশবানী অনলাইন ডেস্ক ।। “ঢামেক মর্গে লাশের সারি”।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সারি সারি করে রাখা হয়েছে লাশের ব্যাগ। কোনো ব্যাগ ছোট আবার কোনোটা বড়। এর ভিতরের লাশগুলো কোনোটা অর্ধেক পুড়ে গেছে আবার কোনোটার সিংহভাগ। দেখে মনে হচ্ছে লাশের স্তুপ। লাশগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে শনাক্তকরণে ব্যর্থ হলে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।,


শুক্রবার (৯ জুলাই)পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ৪৯ জনের লাশ আনা হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের ডেমরা স্টেশনের লিডার মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, পুলিশি পাহারায় আনা সবগুলো লাশ আগুনে পুড়ে গেছে।,


বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড লিমিটেডের ছয়তলা ভবনে আগুন লাগে।,

এতে ঘটনা’স্থলেই মারা যান ৪৯ জন। 


এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেলে এখন পর্যন্ত নয়’জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোরসালিন (২৮) নামের একজন।,

আর হাস’পাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন বারেক (৪৮), নাহিদ (২৪), মঞ্জুরুল (২৮), আহাদ (৩৮), লিটন (৪৪)। এ ছাড়া এখনও চিকিৎসাধীন আছেন হালিমা (১৩), মাজেদা (২৮) ও আমেনা (৪০) নামের তিনজন।,


ঘটনার সময় চিকিৎসা’ধীন তিন’জনই ভবনটির দোতলায় কাজ করছিলেন। দোতলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানায় চিকিৎসাধীন হালিমার মা শাহানা।’

ঢামেক মর্গে লাশের


তিনি বলেন, তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে বড় মেয়ে সাদিয়া ও ছোট মেয়ে হালিমা একই কারখানায় কাজ করেন। গতকাল বিকেল চারটায় বড় মেয়ে সাদিয়া বের হওয়ার পরই ছোট মেয়ে হালিমা কাজে যোগ দেন। এর কিছুক্ষণ পরই একজন ফোনে কল দিয়ে আগুন লাগার খবর জানান।

এরপর তারা রাতভর হালিমাকে খুঁজেছেন। অবশেষে না পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসেন। সেখানে তার ছোট মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পান, অচেতন এখনও। সে মাথায় আঘাত পেয়েছে।
এছাড়াও শাহানা নামে একজন জানান, তার দুই মেয়েই চার মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন, বেতন পান প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা।,


একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন শাহানা নিজেও। আরেকটি কারখানায় তার স্বামী আলমগীর কাজ করেন। রূপগঞ্জ শহরের গাউছিয়া এলাকায় তারা থাকেন। ১৯ মাস পরিবারটি জীবিকার সন্ধানে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ আসেন।


চিকিৎসাধীন সবাইকে রায়হান আহমেদ নামের একজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কারখানাটির কিউসি (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) ল্যাবের সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি।’


তিনি বলেন, কারখানায় প্রবেশের আগেই ল্যাব। কাজ করার সময় হঠাৎ চিৎকার শুনতে পান তিনি। এরপর বের হয়ে দেখেন, ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারদিক। এর মধ্যে ওপর থেকে কয়েক’জন লাফিয়ে পড়েন। কয়েকজন মিলে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে আনেন হাসপাতালে। 


লাশ’গুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে শনাক্ত’করণে ব্যর্থ হলে ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।-দেশবানী নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *