দেশ বাণী ডেস্ক দেশজুড়ে

তিস্তার তীরবর্তী মানুষজনের নির্ঘুম রাত কাটছে!রাজারহাটে তিস্তা’র পেটে ১০৯টি পরিবারের বসতভিটা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


এ.এস.লিমন রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) থেকে: “তিস্তার তীরবর্তী মানুষজনের নির্ঘুম রাত কাটছে
রাজারহাটে তিস্তা’র পেটে ১০৯টি পরিবারের বসতভিটা”।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাক্ষুসী রূপ ধারণ করেছে তিস্তা ।

গত ১০ দিনের ব্যবধানে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘড়িয়ালডাঙ্গা – বিদ্যানন্দ ও নাজিমখান তিনটি ইউনিয়নের ১০৯টি পরিবারের বসতভিটা তিস্তার পেটে চলে গেছে। হুমকীর মুখে রয়েছে ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি মসজিদ, ২টি বাজার, কয়েকশত বিঘা ফসলিজমিসহ প্রায় ৫শতাধিক বসতভিটা।’

সরজমিনে, উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাবখাঁ, চর গতিয়াসাম ও খিতাবখাঁ। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, চতুরা, রতি, তৈয়বখাঁ মৌজা ঘুরে দেখা যায়, ১০৯টি পরিবারের মানুষজন সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁধ রাস্তার ধারে, অন্যের বসতভিটা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

পাশাপাশি খিতাবখাঁ ও চর খিতাবখাঁ গ্রামের সংযোগ রাস্তার ব্রীজটি নদীগর্ভে চলে গেছে। কথা হয় চর খিতাবখাঁ এলাকার ভাঙ্গনকবলিত আজিজুল হক (৭২), আব্দুর রশিদ (৬৫), চর গতিয়াশাম এলাকার ইয়াকুব আলী (৬০),

সোলায়মান (৮৫), কাশেম আলী (৫৫), রহিমা বেগম (৭০), খিতাবখাঁ বড়দরগার আব্দুস ছাত্তার (৭৫) ও আব্দুল আজিজ (৫৫) তারা এ প্রতিনিধিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামরা আর ইলিফ চাইনা, আমরা চাই তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান।

প্রতিবছর বর্ষা এলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি বস্তা ফেলায়। এতে করে ভাঙ্গন ঠেকানো যায়না। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে নদী ড্রেজিং করে দ্রæত মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হউক।

ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে বুড়িরহাট বাজার, কালিরহাট বাজার, চরগতিয়াশাম বগুড়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাবুরহেলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়বখাঁ জামে মসজিদ, মঝাপাড়া জামে মসজিদ, কালিরহাট সোনা মসজিদ, মাঝাপাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা।

রতি মৌজার সাইফুল ইসলাম (৫০) আজিজার (৬০) ও মোস্তাফিজার রহমান (৬৫) জানান, মাঝাপাড়া ৫নং ক্রস বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় আমরা এলাকাবাসি ২৫-৩০ জনের একটি দল পর পর ২বার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডে গিয়ে এসডিও মাহমুদুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ক্রস বাঁধটির ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ করে এসেও অদ্যবধি কোন ধরনের সংস্কার কাজ হয়নি।

তিস্তার তীরবর্তী মানুষজনের

যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে গাবুরহেলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝাপাড়া জামে মসজিদসহ শতাধিক বসতবাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, আপদকালীন সময়ে সরকারি স্থাপনাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলানো হচ্ছে।

স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকতে হবে। আশা করছি খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে মেগা প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম বলেন, এ বছর তিস্তার ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। আমি ভাঙ্গনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।

মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

গত ৬ জুলাই মঙ্গলবার তিস্তায় বিলীন হওয়া ৩টি ইউনিয়নের ১০৮টি পরিবারকে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও নূরে তাসনিম প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার টাকা, ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিড়া, চিনি ৫০০ গ্রাম, লবণ ১ কেজি, তেল ৫০০ গ্রাম করে বিতরণ করা হয়েছে।

বর্তমান রাক্ষুসী তিস্তার ভাঙ্গন আতংকে ৩টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী মানুষজনের নির্ঘুম রাত কাটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *