দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

ডিমলায় মুজিববর্ষের ঘর পেলেও নেই যাতায়াতের রাস্তা!পানি বন্দি উপকারভোগীরা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 
নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ডিমলায় মুজিববর্ষের ঘর পেলেও নেই যাতায়াতের রাস্তা!পানি বন্দি উপকারভোগীরা।”
নীলফামারীর ডিমলায়  মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নির্মিত ৫০টি বাড়ি উঠান,যাতায়াতের রাস্তা বর্ষার পানিতে ভাসছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির চার পাশে পানি থই থই করায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন উপেকারভোগী সদস্যরা। 


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের রুপাহারা গ্রামে ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র ৫০টি পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয় দুই কক্ষবিশিষ্ট ৫০টি বাড়ি।

প্রায় ৫ মাস আগে বাড়ী নির্মাণ কাজ  শেষে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও নেই যাতায়াতের রাস্তা। ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের  জন্য মাত্র দেড় ফিট রাস্তা আছে ,যার একপাশে বাঁশঝাড় অন্যপাশে প্রকল্পের পুকুর।   

ডিমলায় মুজিববর্ষের ঘর

এ ছাড়াও ওই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ তোলা হয়। 
জানা যায়, স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে নিচু জায়গাতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ।


বাড়িতে ঢুকে পড়া পানির দুর্ভোগের সঙ্গে সাপ, পোকা-মাকড়ের ভয়ে রাত কাটাচ্ছেন এই অসহায় মানুষগুলো।’


ফেন্সী বেগম  নামে একজন সুবিধাভোগী বলেন, তার কোনো জমি-জমা নেই।প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘর করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন এমন এক জায়গায় ঘর তৈরি করে দিয়েছেন যেখানে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে এবং বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

তিনি বলেন, যাতায়াতের জন্য রাস্তা নেই।চলাচলের জন্য একমাত্র সরু গলিটিও  ডুবে গেছে পানিতে । বৃষ্টিতে রাস্তা,বাড়ীর উঠান আর পুকুর পানি মিলেমিশে একাকার।খুব ভয়ে আছি  আমার  ছোট ছোট  শিশুদের নিয়ে ,পা পিছলে পুকুরে পড়লেই নিশ্চিত মৃত্যু ।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মোঃ মোশাররফ আলী বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই ঘর দিয়ে পানি পড়ছে, বাড়িতে পানি আসছে। রান্নাঘর, বাথরুম, টিউবওয়েল, যাতায়াতের রাস্তা সব কিছুই পানিতে ডুবে গেছে। পায়খানার মল ভেসে বেড়াচ্ছে ঘরের মেঝেতে,দুর্গন্ধে ঘরে থাকা দায়।’


আরেক বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে  আমার ৭০ হাজার টাকার নছিমন গাড়িটি মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।এখন উপার্জনের রাস্তা বন্ধ ।’


বাসিন্দারা আরোও অভিযোগ করেন, টিউবওয়েলের পানিতে প্রচুর আয়রন থাকায় পানি খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।ঘরের টিন দিয়ে পানি পড়ছে।মেঝেতে ফাটল ধরেছে। একটু বাতাসেই ঘরের টিন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় ।ঘরের দেওয়ালেও ধরেছে ফাটল।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছি।

যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় ৫০টির মধ্যে মাত্র ১৮ টি পরিবার এখানে বসবাস করছেন। বাকি ৩২ টি ঘর এখনও অলস পরে আছে ।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেসবাউর রহমান বলেন,প্রকল্প নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি । নিচু জমি হওয়ায়  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।যাতায়াতের রাস্তার বরাদ্দ হয়েছে ।

এ ব্যাপারে   ডিমলা  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়  জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পটির জন্য এলজিআরডি থেকে একটি বড় রাস্তা নির্মাণ করা হবে ।আমি ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সাথে কথা বলেছি । এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *