দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

ভিক্ষুক পুর্ণবাসন প্রকল্পের ছাগল পেয়ে – স্বাবলম্বী এখন নীলফামারীর ছকদ্দি মামুদ

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিকাশ রায় বাবুল , নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ ভিক্ষুক পুর্ণবাসন প্রকল্পের ছাগল পেয়ে -স্বাবলম্বী এখন নীলফামারীর ছকদ্দি মামুদ।। এক সময় মানুষের দাঁড়ে দাঁড়ে , বাজারে , স্টেশনে যেখানে সেখানে হাত পেতে ইশারায় ভিক্ষা চাওয়াই ছিল যার প্রতিদিনের কাজ

এবং ভিক্ষার টাকা দিয়েই চলত যার সংসার সেই বাক প্রতিবন্ধি ছকদ্দি মামুদ সরকারের ভিক্ষুক পূর্ণবাসন প্রকল্পের আওতায় ছাগল পেয়ে নিজেই আজ স্বাবলম্বী।’

থাকার ঘর তোলার সামর্থ টুকুও ছিলনা ছকদ্দির । চৌরঙ্গী মসজিদ কমিটির লোক জন খরচা দিয়ে তার থাকার ঘর তুলে দেয়। সে ঘরেই ছাগল নিয়ে ছকদ্দি.ও তার স্ত্রী অনেজা বেগম পেতেছে সংসার বললেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার মশিউর রহমান।,


সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের কচুয়া চৌরঙ্গী হাটপাড়া গ্রামের মৃতঃ কাদের মামুদ এর ছেলে ছকদ্দি । সম্পদ বলতে ভিটার ৪ শতাংশ জমি ছাড়া কিছুই নেই । আছে প্রতিবন্ধি স্ত্রী অনেজা বেগম (৪৪) ও ১০ বৎসর বয়সী ছেলে সন্তান, যাকে .পড়াশুনা করে ভাল মানুষ বানাবে বলে তাকে দারোয়ানীতে খালার বাড়িতে রেখেছে ।’

ভিক্ষুক পুর্ণবাসন প্রকল্পের


তথ্য সুত্রে জানা যায় ২০১৩ হতে ২০১৬ ইং সময় কালে নীলফামারী সদর উপজেলার নন্দিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভিক্ষুক পূর্নবাসন কর্মসুচির আওতায় সদরের ২টি ইউনিয়নে প্রায় ১২০ জন ভিক্ষুক কে তালিকার মাধ্যমে ১ টি করে বখড়ি ছাগল প্রদান করেন।


লক্ষীচাপ ইউনিয়ন পরিষদে ছকদ্দিও ১টি ছাগল পায়। সেই ছাগলকে স্বামী স্ত্রী মিলে পরম যতেœ লালন পালনে বড় করে ৬ মাস পর ১টি বাচ্চা দেয় ।

এর পর এক পর্যায়ে ছোট বড় মিলে ছাগল হয় মোট ৯ টি । এর মধ্যে ৩ টি অল্প কিছুদিনের মধ্যে আবার বাচ্চা দেবে, আর ২টি খাসি. বাকিগুলো বখড়ি ।

বেঁচে থাকার তাগিদে দুমুঠো অন্নের জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে হত। তাদের আনিশ্চয়তার জীবনে যে মানুষটি হাসি ফোটাবার জন্য সহযোগীতা করেছেন .তিনি হলেন সে সময়কার সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাবেত আলী।,


ছকদ্দির স্ত্রী জানান বর্তমান মোট ছাগলের দাম প্রায় ১লক্ষ টাকা। সকালে ঘর থেকে বের করে খেতে দেন কাঁঠাল পাতা। দুপুরে মাঠে ছেড়ে দিয়ে ৫ টার সময় বাড়িতে নিয়ে আসে। ছাগলে যেন তাদের সব চাওয়া পাওয়া ।

এক মুঠো চালের জন্য যেতে হয়না এখন অন্যের বাড়ির দরজায়। প্রতিবন্ধি ভাতা ও স্ত্রীর অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলে সংসার।
ভিক্ষাবৃত্তি কিযে আসম্মানের কাজ এখন বোঝেন ছকদ্দি । এখন আর ভিক্ষাবৃত্তি করেন না ছকদ্দি। ছেলেকে পড়াশুনা করে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। স্বামী স্ত্রী দুজনে.স্বপ্নদেখেন আর দশজনের মত।


লক্ষীচাপ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন সে সময়ের ইউএনও স্যার ভীষন ভালো মানুষ ছিলেন । আমি ছকদ্দির ভালোমন্দ খোঁজ নিই। সরকারী যেকোন আনুদান আসলেই তাকে সহযোগিতা করি।


মুঠোফোনে কথা হলে বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব, সাবেত আলী (বর্তমান সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব) বলেন.দারিদ্র নিরসনে ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি দুর করার জন্য সরকার প্রানপণ চেষ্টা চালাচ্ছে ।


তালিকার ভিত্তিতে ভিক্ষুককে পুনর্বাসন আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য নানা সুযোগ সুবিধা প্রদান সহ তাদের মুল ¯্রােত ধারায় নিয়ে আসার চেস্টা চালাচ্ছে। ভিক্ষুকরা যেন অসম্মানের এ কাজটি আর না করে।

বর্তমানে তেমন কোন মানুষকে দেখিনা সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের দুঃখে কাঁদেন। সে সময় আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। ছাগল পেয়ে একজনও যদি উপকৃত হন অবশ্যই সেটা সরকারের প্রাপ্তি।

দেশের কষ্টে পরা মানুষগুলো দুঃখ.কষ্ট অভাবকে জয় করে ভালোভাবে বাঁচুক এই আমার আকাংঙ্খা। সরকারের সাথে দেশের বিত্তবান যারা আছেন তারাও যদি অসহায় মানুষ গুলোর কস্টের কথা ভেবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তবেই উন্নত দেশে পৌছা সম্ভব।-দেশবানী নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *