দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

মাল্টা চাষে ডিমলার নুর আলমের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


জামান মৃধা, নীলফামারী প্রতিনিধি।। মাল্টা চাষে ডিমলার নুর আলমের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন।। মাল্টা ভিটামিন ‘‘সি’’ সমৃদ্ধ একটি ফল। রসালো ফলের মধ্যে এটি অন্যতম। এটি সাইট্রাস জাতীয় ফল মাল্টাতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ”সি” আছে।’

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের জন্য দারুন কার্যকরী। এটি নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মাল্টা বেশ উপকারী। ভিটামিন সি ‘র অভাবে যেসব রোগ হয় মাল্টা তা পূরণ করতে সাহায্য করে।

এতে থাকা খনিজ লবণ, ম্যাগশিয়াম, আয়রণ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, হজমে সাহায্য করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়।’


এ ফল চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন নীলফামারী ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া ইউনিয়ন কাস্টম পাড়া গ্রামের মোঃ মশিয়ার রহমানের ছেলে নুর আলম। দেড় বছর আগে লাগানো তার গাছগুলোতে এখন থোকায়  থোকায় ঝুঁলছে মাল্টা ফল।

বাজারে চাহিদা ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাভজনক হওয়ায় এ ফল চাষে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি মাল্টার পাশাপাশি নিজের জমিতে বিভিন্ন ফসল ও সুপারি চারা তৈরি এবং সবজি চাষাবাদ করেন।,


এই এলাকার মাটি ফল ও সবজি উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় গুরুত্ব দিয়ে কৃষিকাজ করার উদ্যোগনেন তিনি। বাড়ি’র পাশে পতিত জমি থাকায় মাল্টা চাষের পরিকল্পনা চেপে বসে কৃষক নুর আলমের মাথায়।

ওই বছরের মে মাসে মাল্টা চাষ শুরু করতে পরামর্শ নিতে যান ডিমলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে। মাল্টা চাষে চান ভালো ফলন, চান সমৃদ্ধশালী কৃষি উন্নয়ন পরামর্শ। তার আগ্রহ দেখে সহযোগিতার হাত বাড়ান কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।

চাষী নুর আলমকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ”মাল্টা ব্লক প্রদর্শনী” নামে ২শ বারি-১ জাতের মাল্টা গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। চারা এনে তার ১ একর জমিতে রোপণ করেন। মাল্টা বাগানের দেখভাল করার জন্য একজন কৃষি উপ সহকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি এ জমিতে সুপারির চারা তৈরীর চাষও করেন। এছাও এ জমিতে সাথী ফসল হিসেবে মরিচ, হলুদ, পেঁপে, আনারস, বেগুন, আদা সহ বিভিন্ন প্রকারের সবজির চাষাবাদ করা যায় বলে জানান তিনি।,

এবছর মরিচ ও বেগুন ১০হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এছাড়াও সাথী ফসল হিসেবে ১০ হাজারেরও অধিক সুপারির চারা বিক্রি করে অনেক টাকা মুনাফা করেছেন যার বিক্রি এখনো চলমান আছে। তবে মাল্টা চাষে খুঁটিসহ বিভিন্ন উপকরণের সমস্ত খরচ ডিমলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস বহন করায় তার তেমন খরচ হয়নি।,


মাল্টার চারা লাগানোর পর নিবিড় পরিচর্যার কারণে ১৪ মাসের মাথায় প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে অনেকটা চোখে পড়ার মতো। আর এই মাল্টা চাষের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।,


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুঁলে আছে সবুজ রঙের মাল্টা। আকারগুলো সুন্দন ও বেশ বড়সড়।


মাল্টা চাষী নুর আলম বলেন, মাল্টার চাষবাদ আমাদের এলাকায় একেবারেই নতুন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকেই এ ফলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছে। আর সেই অনুপ্রেরণা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরামর্শ থেকেই আমার মাল্টা চাষের দিকে আগ্রহ হওয়া। দেশে উৎপাদিত মাল্টা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে কোনো মাল্টার চেয়ে রসালো, সুস্বাদু ও মিষ্টি।

মাল্টা চাষে ডিমলার


তার রোপণ করা ২০০টি গাছের মধ্যে মাত্র ২৪টি গাছে পরীক্ষামূলকভাবে ফল নেওয়া হয়েছে। একটি মাল্টা গাছে ৫০ থেকে ৮০ টি ফল ধরেছে। যা ওজনে ১০ থেকে ১৫ কেজির মতো হতে পারে। বাজারে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। তিনি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারলেও এবছর ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। 


এদিকে নূর আলমের এই মাল্টা বাগান দেখে আশেপাশের অনেক কৃষক এখন এ জাতের মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে উদ্যোগী হচ্ছেন এ ফল চাষে।

ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম। পশ্চিম সাতজান শালহাটি গ্রামের কৃষক  মনিরুজ্জামান সহ আরো অনেকেই নূর আলমের মাল্টা চাষে সাফল্য দেখে ও উপজেলা কৃষি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরামর্শে মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে।


মাল্টা চাষে আগ্রহী ওই গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় মাল্টা চাষ হয় তা আগে জানতাম না। এখন মাল্টা বাগান করবো বলে চিন্তা করছি। আগে থেকে আমরা এই ফলটির চাষাবাদের সঙ্গে তেমন পরিচিত ছিলাম না। তাই নূর আলমের বাগানের ফলন দেখে এখন এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।


ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  কৃষিবিদ মোঃ সেকেন্দার আলী বলেন, এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই পজেটিভ। কৃষি বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে এবং উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৮ একর জামিতে মাল্টার বাগান স্থাপন করা হয়েছে।

আগামীতে ২০ থেকে ৫০ টি প্রদর্শনী ব্লক স্থাপন করা হবে। মাল্টা পুষ্টিকর ও রসালো একটি ফল। বাজারে মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভাল রয়েছে।

তাই মাল্টা চাষিরা দাম ভালো পেয়ে অনেক খুশি। অন্যান্য সবজি বা ফল  চাষাবাদের পাশাপাশি (একই জমিতে) মাল্টা চাষে এলাকার তরুণ উদ্যোক্তারা বেশি ঝুঁকছেন। বারি মাল্টা-১ চাষে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *