দেশ বাণী ডেস্ক

নবাবগঞ্জে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৯টি ইউনিয়নে ৬৭৬টি ঘর পেয়ে সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন নিবাসীরা 

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


এম এ সসাজেদুল ইসলাম(সাগর),নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)।।দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৬৭৬টি ঘর পেয়ে সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন নিবাসীরা ।।

বাস্তুহারা, ভূমিহীন, গৃহহীন, বিধবা আদিবাসী নারী কাজলী মুর্মূ নিজর কিংবা পিতা-মাতার নামে আশ্রিত কােন জায়গা জমি ছিলনা তার। জন্মের পর থেকেই পার্শবর্তী জােসেফ মুর্মূ এর বাড়িতে একটু জায়গায় বসবাস করত কাজলী রানীর বাবা মা। পরিণত বয়স আসার আগেই বাবা হারায় কাজলী।

মা নিলমনি মার্ডি ওই গ্রামের বুদু মুর্মূর সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয় কাজলী মূর্মূর মায়ের। মানুষের বাড়িতে এবং মাঠে নারী হয়েও শ্রমিকের কাজ করে দুটি সন্তান নিয়ে পরিবার চলে তার। বিয়ের ১০ বছর অতিবাহিত হলে ঘরে আসে দুটি সন্তান। স্বামীর সংসারে পারিবারিক কলােহ আর নির্যাতনের কারণে তালাকপ্রাপ্ত হন কাজলী।’

নিজের নামে জমি ক্রয় করবে কােথা থেকে। যা আয় উপার্যন করে দুমুঠাে ভাত জােটাও কঠিন হয়ে যায় তার জন্য।

এবিষেয় উপজেলার ৮নং মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভেবটগাড়ী আশ্রয়ন কেন্দ্রেগেলে অশ্রুশিক্ত চােখে কথাগুলাে বলছিলেন কাজলী মুর্মূ।’

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার  ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জমি সহ উন্নতমানের পাকা ঘর পেয়ে একদিকে যেমন ৬৭৬টি পরিবারর মাঝে বইছে আন্নদের বন্যা। অপরদিকে ওই ঘর পেয়ে সামাজিক ভাবে সম্মানি্নত হয়েছেন আশ্রায়ন বাসীরা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে তহসিলদারদের মাধ্যমে কার জমি আছে আর কার নাই তা অধিকতর যাচাই বাছাই করে উপকার ভােগী নির্বাচন করে সে তালিকা উপজেলা পর্যায়ে অনুমােদন দিয়ে কর্তপক্ষের বরাবর বরাদ্দর জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এবিষয়ে যােগাযােগ করা হলে উপজেলার ৫নং পুটিমারা ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা মোঃ  সরােয়ার হােসেন জানান, সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ বলতে ‘তামাক ভােট দিয়ে কি হবে? হামার ভাঙ্গা ঘর তুলে দিমেন?’,

আজ ২০২১ সালে গ্রামের মানুষের এ কথার জবাব দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিক খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান দেবার দায়িত্ব সরকারের কি দেশ স্বাধীনের পরে যে সরকারগুলােই ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা কেওউই গৃহহীনদের আশ্রয়স্থল করে দিতে পারেনি।

বর্তমানে মুজিব জন্ম শতবার্ষিকীর বছর এমন প্রকল্প গ্রহণ করা সত্যিই প্রশংশার দাবীদার। এবিষেয় যােগাযােগ করা হলে ৯নং কুশদহ ইউপি চেয়ারম্যান মােঃ সায়েম সবুজ  জানান, তার ৯নং কুশদহ ইউনিয়নে  শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী পালনে যারা ঘর পেয়েছে তারা মহান আল্লাহর দরবারে দােয়া করেছেন। উপজেলার ২নং বিনােদনগর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মােঃ  মনােয়ার হােসেন জানান, তার ইউনিয়নে ভিক্ষুক, অন্ধ, গৃহহীন সরকারের এ প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

৮নং মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মােঃ রহিম বাদশা জানান, দেশ স্বাধীনের পর কােন সরকারই গৃহহীনদের আবাসন সুযােগ সুবিধা দিতে পারেনি। বর্তমান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ প্রকল্প হাতে নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। জেলা আর উপজেলা প্রশাসনের সুষ্ঠ ও সুদরভাবে মনিটরিং করার কারনে ঘরগুলাে হয়েছে অত্যাধুনিক ও দৃশ্যমান।

এবিষয়ে যােগাযােগ করা হলে নবাবগঞ্জ উপজেলা আ’লীগর সহ সভাপতি মােঃ  আমির হােসেন জানান, আওয়ামীলীগ সরকার সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নর চিন্তাভাবনা করে দেশ পরিচলানা করে। একটি স্বাধীন দেশের মানুষ গৃহহীন থাকবে এটা হতে পারেনা। সে জন্য ভৃমি ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। 

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার।নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সােম জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে গরীব দুঃখী অসহায় মানুষ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতো। উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সময় মনিটরিং করে মানসম্মত অাবাসস্থল নির্মানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। এদিকে কাজের গুনগত মান বজায় রাখতে দিনাজপুর ৬ আসনের সংসদ সদস্য মােঃ শিবলী সাদিক তিনিও সরেজমিন গিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ ব্যাবহৃীত সামগ্রী ইট সিমেন্ট, রড, বালু, খােয়া যাচাই বাছাই করে দেখছেন এবং প্রয়ােজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

নবাবগঞ্জে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মােছাঃ পারুল বগম জানান, অসহায় ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ঘর প্রনদনা করায় নিবাসীরা  শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সর্বক্ষন দােয়া করেছেন তারা।

এবিষয়ে যােগাযােগ করা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেফাউল আজম জানান, ২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘােষণা দিয়েছিলেন যে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। তার এই মহান ব্রতক সামনে রেখেই মুজিববর্ষ প্রতিটি গৃহহীন-ভৃমিহীন পরিবারই পাচ্ছে দুর্যােগ সহনীয় সেমিপাকা ঘর, আর দুই শতাংশ জমির মালিকানা।

সম্পর্ণ বিনামল্য দুই শতক জমির মালিকানাসহ সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের সেমিপাকা বাড়ি পাবেন গৃহহীন ও ভৃমিহীনরা। সারা দেশে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের এই মহাযজ্ঞ প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের বিপুলসংখ্যক ভৃমিহীন-গৃহহীন মানুষকে নিজস্ব ঠিকানা অর্থাৎ জমির মালিকানাসহ সরকারি খরচে নির্মিত বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সামনে আর একটি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন, যা নজিরবিহীন।’

প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে থাকবে দুটি বড রুম, একটা কিচেন রুম, একটা ইউটিলিটি রুম, একটা টয়লেট ও একটা বারাদা। দুর্যােগ সহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই থাকবে সােলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরাধক ব্যবস্থা।

প্রতিটি সেমিপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি সবগুলা বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *