দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চায় তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদের গভীরে আজ থাকছে তিস্তা চরের মানুষের কথা৷

জামান মৃধা,নীলফামারী প্রতিনিধি।। ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চায় তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ।।প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর আকুতি করছি, ত্রান চাইনা একটি টেকসই ”বেড়িবাঁধ চাঁই”। এমনটাই আকুতি জানান, নীলফামারী ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকার হাজারো মানুষ।

বারবার উজানের পাহাড়ি ঢল, ভারী বর্ষণ ও তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতের আঘাতে শুধু এই মাটি, বসত ভিটাই ভাঙছে না, ভাঙছে এই জনপদের মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধও৷


এই ভাঙা-গড়ার খেলা আর কত দিন দেখতে হবে তিস্তা পাড়ের মানুষকে? টেকসই বেড়িবাঁধ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার প্রচণ্ড অভাব কিংবা অনীহা আজ তাদের এই অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তিস্তার কড়াল গ্রাসে ভিটেমাটি, সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব রিক্ত নির্ঘুম দুশ্চিন্তায় রাত কাটানো উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছাতুনামা,কেল্লাপড়া,ভেন্ডাবাড়ি সহ তিস্তা অন্ঞ্চলের হাজারো অসহায় পরিবার সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দু’হাত জোর করে এমন দাবী জানান।’

গত ৩০ আগস্ট মধ্যরাতে তিস্তার প্রবল স্রোতে ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানিতে তিস্তা নদীর ডান তীর ২ নম্বর স্প্যার বাঁধটি ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত পরিবারের আশ্রয় নেয়ার শেষ সম্বলটুকুও। ভেসে গেছে ঘরের নিচের মাটি, আসবাবপত্র ,হাঁস-মুরগিসহ পুকুরের মাছ।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারী সহায়তার জন্য তৈরী করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা।,

তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, ত্রাণ চাই না
,চাই টেকসই বাঁধ। তারা বলেন প্রতিবছর বন্যায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমরা ক্লান্ত।এভাবে আর কতদিন? সঠিক পরিকল্পনায় নদী শাসন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষ নিরাপদে থাকবে।’

তারা আক্ষেপ করে বলেন, বন্যার সময় নদী ভাঙ্গনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। তিস্তায় পানি বাড়লে সব সময়ই আতংঙ্কে থাকতে হয় কখন যেন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় পরিবারের লোকজনসহ আমাদের সহায়​-সম্বল টুকু।
কত মানুষ আসে, প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু টেকসই বাঁধ দেয়না।,

প্রতিবছর বন্যায় এ উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি বাগান,পুকুর, তলিয়ে নদীর তীরবর্তী কৃষকের প্রায় কোটি টাকার লোকসান গুনতে হবে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় কাঁচাপাকা বসতবাড়ি,আবাদি জমি আর পানিবন্দী হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় স্পারের-২ নং বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানির তোড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, সবজি বাগান, ঘরবাড়ি, পুকুরের মাছ।

নদীগর্ভে বিলীন কয়েকশো পরিবারের বাড়িঘর, এখন তারা ভূমিহীন। তাই সরকারের কাছে আবেদন, ত্রান সহায়তা না দিয়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ দিলে মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে।তিনি বলেন, জীবনই যদি না থাকে তা হলে ত্রান দিয়ে কি হবে? এই মানুষগুলোর দুঃখের যেন অন্ত নেই!

এলাকার সচেতন মহল বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন তিস্তার বন্যায় প্লাবিত হয়।ফলে তিস্তায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি,তলিয়ে যাচ্ছে বসত ভিটা।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল বলেন, একটি বাঁধের অভাবে প্রতিবছর বন্যা আর নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষের জমি-জমা, ফসলসহ সর্বস্ব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও লাভ হয়নি।


“তাই আমরা আমাদের যার যার সাধ্যমতো চাঁদা দিয়ে এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দুই হাজার ফিট মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছি।কিন্তু প্রবল স্রোতে বাঁধটি হুমকির মুখে।বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়বেন।,

তিনি বলেন, যে কৃষকের মুখে হাসির ভান্ডার থাকার কথা ছিল সেই কৃষক আজ বিষন্নতার সময় পাড় করছে।তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকা পানিতে পরিপূর্ণ।


নদী ভাঙন, ক্ষেত পানির নিচে ,রোপা আমন ধান পানিতে বিলুপ্ত প্রায়। এভাবে পানি থাকলে কৃষদের না খেয়ে মরতে হবে।টেকসই বেড়িবাঁধই একমাত্র সমাধান।’

উল্লেখ্য তিস্তা নদী ভারতের পার্বত্য এলাকা থেকে দার্জিলিং সমভূমিতে নেমে আসে এবং পরে পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) দুয়ার সমভূমিতে প্রবেশ করে। নদীটি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।যা উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *