দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির মহাসচিব কারা নির্যাতনের তিন বছর

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম মনির চৌধুরী রানা,চট্টগ্রাম।। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির মহাসচিব কারা নির্যাতনের তিন বছর।। কারা নির্যাতনের ৩ বছর আজ। আজও এই গায়েবি মামলার ঘানি টানছি। স্বাধীন দেশে যেন পরাধীন নাগরিক আমরা। এজন্যই কি স্বাধীনতা?

আমার অপরাধ আমি দেশের লক্ষ -কোটি শোষিত, অধিকার বঞ্চিত,নির্যাতিত, নিপিড়ীত যাত্রী সাধারণের পক্ষে কথা বলি। তাদের সুযোগ সুবিধার পক্ষে সোচ্চার।,

গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানি, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, চাঁদাবাজী ও অন্যায়, অন্যার্য ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিগত দুই যুগ ধরে আপোষহীন আন্দোলন সংগ্রাম করছি ।

ফলে কালের প্রবাহে বিভিন্ন সময়ে বারবার কতিপয় দুর্নীতিবাজ পরিবহন মালিক -শ্রমিক, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা রোষানলে পড়তে হয়েছে আমাকে।’

তারা সুযোগ বুঝে সময়ে সময়ে সরকারের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ক্ষেপিয়ে তুলছেন আমার বিরুদ্ধে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতের আধাঁরে দেশজুড়ে আলোচিত চাঞ্চল্যকর এক মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বাদীবিহীন কথিত এক গায়েবি চাদাঁবাজীর মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় আমাকে।

আমার নাম ও ঠিকানা বিহীন এই মামলাটি যে দিন দায়ের হয় ঐ দিন গভীর রাতে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ের বাসা থেকে আমাকে গ্রেফতার করে।

জামিনে বেরিয়ে আসার পরে জানতে পারি মিরপুর থানার পুলিশ আমার মামলা হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই আমার এলাকায় ঘুরছে আমার সন্ধানে।

আমি যখন জেলে ছিলাম তখনই এ গায়েবি মামলায় আমাকে হেনস্তার বিষয়গুলো আপনার যারা সচেতন তারা নিশ্চয়ই পত্র পত্রিকা ও টিভি মিডিয়ার যাবতীয় ঘটনা প্রবাহ জেনেছেন,দেখেছেন।

আপনারা যারা ভুক্তভোগী তারা নিশ্চয়ই জানেন, দেশের যাত্রী হয়রানী, ভাড়া নৈরাজ্য, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, সড়ক দুর্ঘটনায় অজশ্র প্রানহানী যখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িঁয়েছিল।’

যখন যাত্রীসাধারণের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ ছিল না, যখন যাত্রীস্বার্থ ভুলুন্ঠিত হচ্ছিল, ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছিল, যাত্রীসাধারণকে কথায় কথায় অপমানিত করা হতো, এক কথায় দেশের যাত্রীসাধারণ গুটিকতেক অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই সময়ের দাবীর প্রেক্ষিতে আজ থেকে দু’যুগ পূর্বে দেশের যাত্রীসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার নিয়ে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলাম প্রতিবাদী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।’

এই সংগঠনের দীর্ঘ দুই যুগের আন্দোলন সংগ্রামে দেশের পরিবহনে শৃঙ্খলা ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারসহ সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মহল থেকে ও বিভিন্ন সময়ে একাধিক নির্দেশনা এসেছে।,

কিন্তু একটি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী দেশের গণ’মানুষের আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে বিভিন্ন সময়ে হামলা, হুমকি ও নানা’ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আন্দোলনটি থামিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালাই।’

এতে ব্যর্থ হয়ে কথিত বাদীবিহীন গায়েবি চাদাঁবাজীর মামলা মিরপুর থানায় দায়ের করে ঠিকানাবিহীন ঐ মামলায় ০৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নারায়ণ’গঞ্জের সানারপাড়ের বাসা থেকে আমাকে গ্রেফতার করে ।,

সেই দিন এই মিথ্যা ও গায়েবী মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে উঠে।’

পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত ১০ সেপ্টেম্বর আমাকে জামিনে মুক্তি দিলেও পুলিশ কাফরুল থানার অস্ত্র ও বিষ্ফোরক আইনের দায়ের করা অপর মামলায় আমাকে গ্রেফতারের অপচেষ্টা চালাই ।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিলে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ০৮ ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে আমি মুক্তি লাভ করি । আজো এই মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে আমাকে।,

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান

কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করলেও এখন যেন পুরো বাংলাদেশটায় আমার কারাগার। স্বাধীন দেশে আমরা যেন পরাধীন নাগরিক!

ষড়যন্ত্রকারীরা আজো থামেনি। কেবল তাদের চরিত্র বদল হয়েছে। তারা নানাভাবে কখনো আমার চরিত্রে কালিমা লেপনের, কখনো আমাকে দুর্নীতিবাজ সাজাবার, কখনো আমাকে কোটি কোটি মালিক সাজাবার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

তবে দেশের নির্যাতিত, নিপীডিত,অধিকার বঞ্চিত দিশেহারা সাধারণ মানুষের এই আন্দোলনটিকে আমি পবিত্র ইবাদত মনে করি। তাই মহান আল্লাহর রহমত ও গায়েবি সাহায্য সাথে রয়েছে । তাই এসব যড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি।

লেখকঃ Md. Mozammel Hoque Chowdhury
মোজাম্মেল হক চৌধুরী
মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *