দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

পটিয়া হাসপাতাল যেখানে অনিয়মই নিয়ম: কর্মস্থলে থাকেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম মনির চৌধুরী রানা,চট্টগ্রাম।। পটিয়া হাসপাতাল যেখানে অনিয়মই নিয়ম: কর্মস্থলে থাকেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।।চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ডাক্তারের উদাসীনতাসহ নানাবিধ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা।

এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে চরম বঞ্চিত হচ্ছে। টিকা নিয়ে পদে পদে হয়রানি হচ্ছে মানুষ।গত ০২ মাস পূর্বে টিকার রেজিষ্ট্রেশন করা অনেকে ০১ম ডোজ গ্রহণের সুযোগ না পেলে ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে পরিচয় থাকা কারনে অনেকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পরের দিন কিংবা এক সপ্তাহের মধ্যেই টিকা পেয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজমা আক্তার নামের এক মহিলা জানান গত ০২মাস পূর্বে টিকার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও এখন ও প্রথম ডোজের এসএমএস আসেনি।

উদাহরণ মতে পটিয়া প্রেস ক্লাবের প্রবীণ সদস্য সাংবাদিক জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবের পটিয়ার প্রতিনিধি গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য কর্মকতার অফিসে কথা বলার এক পর্যায়ে নয়ন শর্মা নামের এক ব্যক্তি ৫টি নিবন্ধন কার্ড এনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্য সাচী নাথকে কানে কানে কি যেন বলার পর হাবিব নামের এক জনকে ডেকে বললেন এগুলো এসএমএস ঠিক করে দাও।

নয়ন শর্মার মতো এ সংবাদদাতার ০২টি নিবন্ধনের এসএমএস ঠিক করে দিতে বললে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অপারগতা প্রকাশ করেন। নয়ন শর্মাকে কিভাবে দেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি উপরের নির্দেশ আছে বলেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে বিধি বর্হিভূত ভাবে ২৬শ লোককে গণ টিকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৫ আগস্ট কমপ্লেক্সের ইপি আই টেকনিশিয়ান রবিউল হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়।

কিন্তু এখনও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্যসাচী নাথের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

টিকা নিয়ে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতি বছর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার জন্য লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসলেও টাকা গুলো কোথায় ব্যয় হয় তা কেউ জানে না।

অথচ ল্যাব কক্ষের পেছনে ময়লা আবর্জনার স্তুপে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালে আগত অধিকাংশ রোগীকে ভর্তি না করে ডাক্তারেরা চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার মতো রোগীদেরকেও হাসপাতালে ভর্তি না করার দরুণ তারা মেডিকেলের সামনে বেসরকারি চিকিৎসা সংস্থা জেনারেল হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকে। এতে রোগীদের মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাবলিক হাসপাতাল গুলোর সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ থাকার কারণে রোগী ভর্তি করেন না।

সূত্র জানায় স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা সব্যসাচী নাথ পটিয়ায় বরাদ্দকৃত ভবনে না থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিলাস বহুল বাসায় থাকেন। এতে বিকেল ৫টার পর থেকে কোন জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায় না।

এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজে ব্যবহারের জন্য গাড়িটিও সব্যসাচী নাথ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।

অত্র হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কানাঘোষা শোনা যাচ্ছে। ঐ নারী চিকিৎসককে সব সময় তার গাড়ীতে ও অফিসে দেখা যায়।

পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব্যসাচী নাথ যোগদানের পর থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে বলে একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান ।

হাসপাতালের আইসিইউ এম্বুলেন্সটি বন্ধ রেখে অবৈধ আর্থিক লাভের জন্য হাসপাতালের ভিতরে প্রাইভেট এম্বুলেন্সকে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা সব্যসাচী নাথ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি সারাদিন
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করতে পারবো না।

তাই শহরে আমার ভাড়া বাসায় চলে যাই। অন্যান্য অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *