দেশ বাণী ডেস্ক দেশজুড়ে

সৈয়দপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ হতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ব্যাপক কেরামতি

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃজাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)।। সৈয়দপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ হতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ব্যাপক কেরামতি।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাপক কেরামতি করে অধ্যক্ষ পদে নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন আহমদ আলী।আমি নিজের পত্রিকায় কাজ করি। আমি দালাল নই।

অন্য সাংবাদিক’দের ম্যানেজ করার বিষয় ঠিক নয়। মহা কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে জেলা তথা উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “সোনাখুলী কামিল (এমএ) মাদরাসা”র সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ সাফল্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।’

সৈয়দপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ

অধ্যক্ষের শূন্য পদে নিজেকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য তার গৃহীত কেরামতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তার বাধ্যগত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন, নীতিমালা লঙ্ঘন করে সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা,

নিয়োগের জন্য অত্যন্ত গোপনে বিজ্ঞপ্তি দেয়া, কারসাজির নিয়োগকে বৈধতা দিতে প্রক্সি বা ডামি প্রার্থী হিসেবে নিজের লোকদের আবেদন করানো এবং তাদের নিয়ে সংগোপনে পরীক্ষার আয়োজন। পরীক্ষায় পরাজিত হওয়ার ভয়ে এক যোগ্য প্রার্থীর আবেদন বাতিল এবং অপর দুইজনের প্রবেশপত্র না পাঠিয়ে ফাঁকি দেয়া।,

সূত্র জানায়, আহমদ আলী এসব সুচারু রুপে সমাধা করতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালেই নিজের আয়ত্বে থাকা লোকদের দিয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি করে। এমনকি জামায়াত ঘেষা হয়েও আওয়ামীলীগ নেতাকে সভাপতি করে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার খায়েস আর মোটা অংকের অর্থের লোভকে কাজে লাগিয়ে তাকে বাগে আনে।

ফলে সভাপতিসহ ১১ সদস্যের কমিটিতে ৭ জনই তার লোক। যাদের নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে ইচ্ছেমত চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান। কমিটির অন্য ৪ জন সদস্য, শিক্ষক, কর্মচারী সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কোন বিষয়ে কিছুই অবগত করেননা।,

এই কমিটিকে দিয়েই নিজের পছন্দের শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করেন। এক্ষেত্রে নিয়োগ বিধির ১২ নং (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ) প্রবিধি ‘ক’ এর ১, ২, ৩ ও: প্রবিধি ‘খ’ (জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা নির্ধারণ) লঙ্ঘনের মাধ্যমে সিনিয়র শিক্ষক জাকারিয়াকে বঞ্চিত করে জুনিয়র মাহতাবুল আলমকে নিয়োগ দিয়েছেন।

নিজে অধ্যক্ষ হলে তাকে উপাধ্যক্ষ করবেন বলে সকলকে পাশ কাটিয়ে এই মাহতাবুল আলমকে দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেন।’

চলতি বছরের ২০ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা যাতে সৈয়দপুরে সার্কুলেশন না হয় সে ব্যবস্থাও করেন। “রোহিঙ্গা হক” নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে দিয়ে পত্রিকার স্থানীয় এজেন্ট অফিস থেকে গায়েব করে দেয়া হয় ওইদিনের দৈনিক সংবাদ। ফলে সৈয়দপুরের কেউই জানতে পারেনি অধ্যক্ষ নিয়োগ বিষয়ে।

এমনকি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, কমিটির সদস্যরাও জানতনা এ খবর।,

এরপর শুরু হয় আরেক কেরামতি। নিয়োগকে বৈধতা দিতে প্রার্থী হিসেবে নিজের বাধ্যগত লোকদের দিয়ে আবেদন করায়। এসব প্রক্সি বা ডামি (সাজানো) প্রার্থীদের সকলেই ছিল সৈয়দপুরের বাইরের। যাদের অর্থের বিনিময়ে একাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

এই নিয়োজিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পত্রিকার অনলাইনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে মাত্র একজন আবেদন করেছিল। কিন্তু নিজের নিয়োগ নিরঙ্কুশ রাখতে আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ নামের ওই প্রার্থীর আবেদন অকারনেই বাতিল করা হয়।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের আগের দিন ডিজি প্রতিনিধি সামসুজ্জামান (সহকারী পরিচালক-অর্থ) তাঁর পূর্ব পরিচিত সৈয়দপুরের এক মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট কে তাঁর আগমনের কথা জানালে সংশ্লিষ্ট মহলে খবরটা ছড়িয়ে পড়ে। তারপরও অত্যন্ত গোপনেই চলছিল নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন। কিন্তু মাঝে বাধ সাধে আহমদ আলীরই একজন প্রক্সিপ্রার্থী আব্দুল হাকিম।

অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রার্থী ৮ জন আবেদনকারীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এবং মেধায় এগিয়ে থাকায় তিনি নিজেই নিয়োগ পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলে ফেরত দেন প্রক্সি প্রার্থী হওয়ার জন্য নেয়া অর্থ। তাই আব্দুল হাকিম যেন পরীক্ষাই দিতে না পারে সেজন্য তাকে সহ দুইজন প্রার্থীকে ডাকাই হয়না। পাঠানো হয়নি তাদের এডমিট কার্ড। বার বার যোগাযোগ করা সত্বেও তাদেরকে পরীক্ষার তারিখ না জানিয়েই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহনের আয়োজন করা হয়।

অন্য মাধ্যম থেকে শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষা নেয়ার খবর জানতে পেরে আব্দুল হাকিম সরাসরি উপস্থিত হয় মাদরাসায়। এতে হতবাক ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ে আহমদ আলীসহ তার লোকজন। বেকায়দায় পড়ে যায় পুরো সাজানো নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে প্রথমে তাকে পরীক্ষার এডমিট কার্ড দিতে গড়িমসি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহতাবুল আলম। কিন্তু কৌশলে পরীক্ষা নিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সাথে দেখা করে কার্ড পান তিনি।

লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পায় আব্দুল হাকিম। এতে আরও শঙ্কাগ্রস্থ হয়ে পড়ে আহমদ আলী গং। তাই আব্দুল হাকিমকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে ভাইভায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার কেরামতি চালানো হয়। হক নামে এক ব্যক্তি এ কাজ করে বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল হাকিম।

সে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে আব্দুল হাকিমকে জোরপূর্বক মাদরাসার প্রধান গেটের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এসময় পরিচিত একজনকে পেয়ে ঘটনা খুলে বলে এবং ভাইভা পরীক্ষা দেয়ার আকুতি জানায় আব্দুল হাকিম। মূহুর্তে এ কথা ছড়িয়ে পড়ে আশে পাশে। এতে স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরীক্ষার দাবিতে আব্দুল হাকিমকে নিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেয় হক। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে লোকজন।এক পর্যায়ে জোর করেই ভিতরে ঢুকে ধাওয়া করলে পালিয়ে রক্ষা পায় সে।

এরপর ভাইভা চলাকালে আসল কেরামতি দেখায় ডিজি প্রতিনিধি। তার কেরামতিতে আব্দুল হাকিম ভাইভায় করা সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলেও কৌশলে আহম্মদ আলীকে ২ নম্বর বেশি দেন তিনি। আহমদ আলীর অগ্রিম বুকিং নেয়া এ কেরামতিতে ধরাশায়ী হয় লিখিত ও শিক্ষাগত যোগ্যতার স্কোরে এগিয়ে থাকা আব্দুল হাকিম।

এ ব্যাপারে আব্দুল হাকিম মুঠোফোনে জানান, আমাকে ইচ্ছেকৃতভাবে পরাজিত করা হয়েছে। পদে পদে বাধা দিয়েছে। আমার এডমিট কার্ডও ইস্যু করেনি। নিয়মিত যোগাযোগ করা হলেও আমাকে না জানিয়েই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছিল।ভাগ্যক্রমে জানতে পেয়ে পরীক্ষার আগে

উপস্থিত হয়ে এডমিট চাইলেও দেয়নি নিয়োগ কমিটির প্রধান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। 
এমনকি লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় ভাইভা থেকে বিরত রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে। হক নামে এক ব্যক্তি ভাইভার আগে আমার এডমিট কার্ডসহ কাগজপত্রের ফাইল কেড়ে নিতে চেয়েছিল। সব অপচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষে ভাইভায় স্বৈরাচারী কায়দায় আমার সফলতাকে রুখে দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে কমিটি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, ডিজি প্রতিনিধি ও নিউজ মিডিয়াকর্মীরা অপকর্মের পক্ষাবলম্বন করেছে। আমি যেহেতু তার প্রক্সি প্রার্থী ছিলাম তাই সব জানি। 
তিনি বলেন, আমি এখনও আত্ম বিশ্বাসের সাথে বলছি যে আমাকে পরাজিত করার মত যোগ্যতা ও মেধা কোন প্রার্থীরই নেই। এখনও যদি খাতা পরীক্ষা করা হয় তাহলে এর সত্যতা পাবেন। আহমদ আলী অর্থের জোরে সব ঘাট বেধে নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন কর্মকাণ্ড হিতকর নয়। যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান এহেন গর্হিত কাজের মাধ্যমে পদ বাগিয়ে নেন। সে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কতটুকু নৈতিকতা শিখবে?
এ ব্যাপারে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান পাটোয়ারির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিলো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের। তিনিই সব কিছু করেছেন। আমি এর বেশি বলতে পারবোনা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবে। 
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহতাবুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাদরাসায় দেখা করতে বলেন। কিন্তু মাদরাসায় গেলে তিনি আড়ালে চলে যান। এমনকি মুঠোফোনও বন্ধ করে দেন। ফিরে এসে পরের দিন কল দিলে তিনি জানান, আজকেই (সোমবার) নতুন অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিছু জানার থাকলে অধ্যক্ষের সাথেই যোগাযোগ করেন। আমি এ ব্যাপারে এখন আর মন্তব্য করতে বা জবাব দিতে পারবোনা। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নাম জানাতেও অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
অধ্যক্ষ আহমদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সকল বিধি মেনে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখিত অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। বার বার জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার দিন হক’কে দিয়ে তো নীলফামারী ও সৈয়দপুরের প্রায় ৪০ জন সাংবাদিককে সম্মান করা হয়েছে। তাদেরকেই সব তথ্য দেয়া হয়েছে। আপনারা আজ আসছেন কেন? এখন আর কোন তথ্য দেয়া হবেনা।
অপরদিকে মোতালেব হক’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আব্দুল হাকিম কে বাধা দেয়ার অভিযোগ ভুয়া। কেননা সেতো পরীক্ষা দিয়েছে। বাধা দিলে কি পরীক্ষা দিতে পারতো? ঘটনা সত্য হলে আব্দুল হাকিম কে বলেন আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করুক।আর আমি নিজের পত্রিকায় কাজ করি। আমি দালাল নই। অন্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার বিষয়ও ঠিক নয়। কেউ যদি বলে থাকে তাহলে সেটা তার নিজস্ব অভিমত মাত্র। 
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সকল পক্ষকে ম্যানেজ করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অধ্যক্ষের প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ নিয়োগটাই অবৈধ। কারণ যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেছেন তার নিয়োগই নিয়োগবিধি অনুযায়ী অবৈধ। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে গায়ের জোরে এমনটা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ হলে অধ্যক্ষের পুরো কেরামতিই ভেস্তে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *