দেশ বাণী ডেস্ক

৭ বছর কারাদণ্ড হতে পারে নুসরাতের

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের জন্যএকটি কঠোর আইন করা হয়েছে। আইনটিরশিরোনাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমনআইন-২০০০। ২০২১ সালে এই আইনটি সর্বশেষসংশোধনী করা হয়। এই আইনে নারী এবং শিশুনির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান করাহয়েছে। কিন্তু এই আইনটি প্রণীত হবার পরথেকে দেখা যাচ্ছে যে, কতিপয় ব্যক্তি আইনটিরঅপব্যবহার করছেন, মিথ্যা মামলা করেপ্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল অবলম্বনকরছে। আর এ কারণেই এরকম মিথ্যা এবংঅবিবেচক সুলভ মামলা যেন না হয় সেটিপ্রতিরোধ করার জন্য এই আইনের ১৭ ধারায়মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলে তার শাস্তিরবিধান করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনআইন-২০০০ অনুযায়ী এ ধরনের মিথ্যা মামলাকরলে ৭ বছর পর্যন্ত দণ্ড হতে পারে। আজঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমনট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মাফরোজাপারভীনের আদালতে এরকম একটি হত্যা ওধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।,

 মামলারবাদী হলেন নুসরাত। তিনি মুনিয়ার বোন। আরএই মামলাটি যদি শেষ পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করতেনা পারেন তাহলে মিথ্যা মামলা দেয়ারঅভিযোগে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিতকরা হতে পারে।’

উল্লেখ্য যে, এ বছরের ১৯শে এপ্রিল গুলশানেরএকটি ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন মুনিয়া। এইআত্মহত্যার পরপরই নুসরাত গুলশান থানায়আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটিমামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তিন মাস তদন্তের পরপুলিশ ১৯শে জুলাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলকরেন।

 সেখানে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেআত্মহত্যার প্ররোচনার কোন আলামত পাওয়াযায়নি। একই সাথে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলাহয় যে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন। এর বিরুদ্ধেএকটি নারাজি দরখাস্ত দেন ওই মামলার বাদীনুসরাত। কিন্তু আদালত ওই নারাজি আবেদননাকচ করে দেন এবং পুলিশের যে চূড়ান্তপ্রতিবেদন সেটি গ্রহণ করেন। এর ফলে মুনিয়ারআত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে যে মামলাটিনুসরাত দাখিল করেছিলেন সেই মামলাটি নাকচহয়ে যায় এবং শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নুসরাতকেএকটি মহল প্ররোচিত করছে এবং অন্য উদ্দেশ্যহাসিলের জন্য তাকে আবার নতুন একটি মামলাদায়ের করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তারইফলশ্রুতিতে আজ সোমবার ঢাকার ৮ নম্বর নারীশিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নুসরাত বাদীহয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন এবং হত্যাধর্ষণের মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।মজার ব্যাপার হল যে, নারী ও শিশু নির্যাতনদমন আইনের ৯(১), ৯(২) এবং ৯(২)-এ ধর্ষণেরকথা বলা হয়েছে। ৯(১)-এ বলা হয়েছে যে, যদিকোন ব্যক্তিকে ধর্ষণ করা হয়, ধর্ষণের পর যদিওই নারী জীবিত থাকেন তাহলে ৯(১) ধারাপ্রযোজ্য হবে। ৯(২)-এ বলা হয়েছে, ধর্ষণ করেহত্যা করা হলে ৯(২) প্রদান করা হবে। আর ৯(৩)হল গ্যাং-রেপ, যেখানে সম্মিলিতভাবে কাউকেধর্ষণ করা হয়েছে।’

মুনিয়া মারা গেছেন হাজার ১৯শে এপ্রিল আরতার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে যে, তিনিআত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেছেন। কাজেই,এতদিন পর এই ধর্ষণের মামলা দায়ের করাটাইউদ্দেশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।কারণ, ধর্ষণের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তাহলেযখন ধর্ষণ হয়েছে তার পরপরই মামলাটি করতেহবে।”

 আইন অনুযায়ী ধর্ষণ হল কারোঅসম্মতিতে জোর করে তার সঙ্গে শারীরিকসম্পর্ক স্থাপন। সেটি এতদিন না করে এখন এমামলাটি দায়ের করাটাই একটি উদ্দেশ্যমূলকবলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকরা। দ্বিতীয়ত,হত্যা মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে যেমুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তেররিপোর্টে যখন আত্মহত্যা প্রমাণিত হয়েছে তখনএটিকে ধর্ষণ বলার উদ্দেশ্য কি সে নিয়েও প্রশ্নউঠেছে। এখন ঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলাটিকেপিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।পিবিআই নিশ্চয়ই তদন্ত করবে এবং সত্যঅনুসন্ধান করবে কিন্তু মামলার ভারে ন্যুজ হয়েথাকা নিম্ন আদালতে আরেকটি নতুন মামলাকরা হয়েছে যে মামলাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলোমিডিয়াতে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা,কিছু ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা।,

কাজেই এই মামলাটির শেষ পরিণতিআত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার মতোই হতেপারে বলে অনেকে মনে করছেন। সেক্ষেত্রেনুসরাতকে হয়তো মিথ্যা মামলার অভিযোগেদোষী সাব্যস্ত করা হতে পারে এবং সেটি যদি হয়তাহলে ১৭ ধারা অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ সাতবছরের কারাদণ্ড হতে পারে।,

মুনিয়ার ভাইয়ের মামলা কেন ধামাচাপা দেয়াহচ্ছে?

আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা মিথ্যা ও ভিত্তিহীনপ্রমাণিত হবার পর মুনিয়ার বোন নুসরাত তানিয়াগতকাল সোমবার নতুন একটি উদ্দেশ্যমূলকমামলা দায়ের করেছেন। গতকাল সোমবারঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমনট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মাফরোজাপারভীন বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে মামলাটিপিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এইমামলা আমলে নেয়ায় আইনের গুরুতর ব্যত্যয়ঘটেছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। মুনিয়ারমৃত্যুর পর গতকালের মামলার পর মোট ৩টিমামলা দায়ের হলো।’

 মুনিয়ার আত্মহত্যার পরপ্রথম মামলাটি দায়ের করেছিলেন মুনিয়ার বড়বোন নুসরাত তানিয়া। এটি ছিলো আত্মহত্যাপ্ররোচনার মামলা। এরপর মুনিয়ার বড় ভাইআশিকুর রহমান সবুজ মুনিয়ার মৃত্যুকেহত্যাকাণ্ড দাবী করে সিএমএম আদালতে একটিহত্যা মামলা দায়ের করেন। ঐ হত্যা মামলায়প্রধান আসামী করা হয় চট্টগ্রামের হুইপ শামসুলহক চৌধুরীর পুত্র নাজমুল করিম শারুনচৌধুরীকে। মামলার অভিযোগে বলা হয় ‘শারুনতার লোকজনকে দিয়ে গুলশানের ফ্লাটে গিয়েমুনিয়াকে হত্যা করে।’ মামলার অভিযোগেআরো বলা হয়েছিল যে ‘শারুন মুনিয়ার সংগেপ্রেমের অভিনয় করে। মুনিয়া যখন তাকে বিয়েরজন্য চাপ দেয় তখনই শারুন তাকে হত্যারপরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে পেশাদার খুনি দিয়েকৌশলে মুনিয়াকে হত্যা করে।’

যেহেতু সে সময়, মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনামামলাটি তদন্তাধীন ছিলো, তাই এই মামলাটিরকার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। গত ১৯ জুলাইমুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় পুলিশচূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদান করে। ময়না তদন্তরিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ ও তদন্তকরে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ‘আত্মহত্যার কোনপ্ররোচনা হয়নি।’ পুলিশের এই চূড়ান্তপ্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মুনিয়ার বোন নুসরাততানিয়া নারাজি দরখাস্ত দেয়। আদালতএব্যাপারে নথিপত্র বিশ্লেষণ করে, নারাজিআবেদনটি নাকচ করে দেয়। ফলে, ১৮ আগস্টইআত্মহত্যা প্ররোচনা মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।স্বাভাবিক ভাবেই, এরপর মুনিয়ার ভাইয়েরমামলাটি তদন্ত হবার কথা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণেসেটি তদন্ত না করেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমনআইনে নুসরাত একটি হত্যা ও ধর্ষণের মামলাটিপিবিআইয়ের কাছে তদন্তের জন্য পাঠানোহয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে এই মামলাঅগ্রহণযোগ্য এবং বে আইনি। মুনিয়ার ঘটনানিয়ে তার ভাই আশিকুর রহমান সবুজের একটিহত্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *