আলোচিত দেশ বাণী ডেস্ক

নুসরাতকে গ্রেপ্তার করলে খুলবে ষড়যন্ত্রের জট

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


একটি মৃত্যুকে ঘিরে একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে। একটি মামলা শেষ করেই আবার নতুন মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের বিভ্রম হতে পারে, মনে হতে পারে ন্যায়বিচারের জন্যই হয়তো মামলা করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে অনুসন্ধান করে দেখা যাচ্ছে যে, আসলে ন্যায় বিচার নয় বরং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সরকারকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলার জন্যই এ ধরনের একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মুনিয়া মারা যান ১৯শে এপ্রিল। তার মৃত্যুর পরপরই তার বোন নুসরাত তানিয়া একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন

যদিও এ ধরনের মৃত্যুর পর প্রথমে অপমৃত্যুর মামলাই দায়ের করা হয় এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। কিন্তু যেহেতু তার বোন আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন সেহেতু পুলিশ ওই মামলাটি গ্রহণ করে এবং তদন্ত করে। তিন মাস তদন্ত করা হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নেয়া হয়। সবকিছু মিলেই প্রমাণিত হয় যে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন এবং তার আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোন প্ররোচনাও ছিল না। কিন্তু এই তদন্ত রিপোর্টের পর যখন আদালতে দাখিল করা হয় তখন বাদী নুসরাত তানিয়া আবার একটি নারাজি দরখাস্ত দেন। ১৮ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নারাজি দরখাস্তটি নাকচ করে দেন এবং মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। অর্থাৎ একটি ঘটনায় যে মামলাটি হয়েছিল সেই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। আইনের দৃষ্টিতে এই ঘটনায় আর নতুন কোন মামলার সুযোগ নেই।

বাদী যদি আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট হন তাহলে তার জন্য পথ খোলা আছে, তিনি উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারেন। কিন্তু নুসরাত তানিয়া সে পথে যাননি। বরং তিনি আরেকটি নতুন মামলা করেছেন যেখানে তিনি ৮ জনকে আসামি করে হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগে। আদালত এ মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।


এখন প্রশ্ন হল যে, একটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে এবং মামলার মাধ্যমে কিছু স্বনামধন্য ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য কি? মুনিয়ার মৃত্যুর পর যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এবং এই ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন করার জন্য নুসরাতকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। কারণ মুনিয়া যখন মারা যান তখন তার সঙ্গে কে ছিলেন তা সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যাবে। এ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার বাসায় কারা কারা তার মৃত্যুর আগে গিয়েছিল তাদেরকে খুঁজে বের করা দরকার।

দ্বিতীয়ত, মুনিয়া এবং নুসরাতের ব্যাংক একাউন্টে কারা কারা টাকা দিয়েছেন, কত টাকা লেনদেন হয়েছে সেই সমস্ত তথ্যাদি উদ্ধার করা দরকার। তৃতীয়ত, নুসরাত তানিয়া কার কার সঙ্গে কথা বলছেন, কাকে কাকে নিয়ে বৈঠক করছেন এবং কার সহায়তা নিয়ে মামলা করছেন সে সম্পর্কে তথ্য গুলো গ্রহণ করা দরকার। আর এই তিনটি তথ্য একত্রিত করলেই বোঝা যাবে যে নুসরাত কার পক্ষে খেলছেন এবং এই ষড়যন্ত্রের মূল রহস্য কি।
উল্লেখ্য যে, নুসরাত এই মামলার বিচারের জন্য যে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তাকে সমর্থন দিচ্ছেন যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী কিছু সোশ্যাল মিডিয়া। তারা কুৎসিত নোংরা আক্রমণ করছেন সরকারের বিরুদ্ধে এবং সরকারকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।

তার মানে নুসরাতের এই অতি উৎসাহের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জড়িত আছে। সাম্প্রতিক সময়ে সুশীল সমাজের একটি অংশ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এমনকি তারা হিন্দু আইন সংশোধন করারও উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই সমস্ত উদ্যোগগুলো যখন চলছে তখন তাদের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ডেইলি স্টার-প্রথম আলো গ্রুপ নেপথ্যে মুনিয়াকে নিয়ে কলকাঠি নাড়ছে কিনা সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। কারণ, আমরা দেখেছি যখন মুনিয়ার মৃত্যুর ব্যাপারে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তখন যে কয়েকজন সুশীল সমাজ এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছিলেন তারা সকলেই ছিলেন ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব এবং স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর মদদদাতা এবং পৃষ্ঠপোষক। কাজেই নুসরাত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির প্রিয় নায়ক হিসেবে কাজ করছেন কিনা সেটাও দেখার বিষয়। আরো মজার ব্যাপার হল যে, এই মামলার যিনি আইনজীবী হয়েছেন তিনিও একজন যুদ্ধাপরাধীর পৃষ্ঠপোষক এবং যার অতীত ভূমিকা অত্যন্ত আপত্তিকর। সব মিলিয়ে নুসরাত তানিয়া যে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী এবং বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর মদদ গ্রহণ করেই এসব করছেন তা পরিষ্কার।

আর এ কারণেই নুসরাতকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা দরকার। তাকে গ্রেপ্তার করলেই পুরো ষড়যন্ত্রকারীদের নেটওয়ার্ক খুঁজে ফেলা যাবে, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *