ডেস্ক রিপোর্ট

কিশোরগঞ্জে শতকোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রংপুর বিভাগে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের থানা সংলগ্ন লিপ্রোসি কেন্দ্রের ৭৪ শতক, উপজেলা পরিষদ চত্বরের ৪৫ শতক এবং কিশোরগঞ্জ থানা সংলগ্ন গরু হাটির ৭ শতাংশ সরকারী সম্পত্তি ১০ কোটি টাকার জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি। সম্প্রতি এক দখলদারকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও জমি উদ্ধার করতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। ফলে অন্য দখলদাররা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ আবাসিক এলাকার মোট জমি ২২ একর ৭ শতাংশ। তাঁর মধ্যে উপজেলা পুরাতন হলরুম সংলগ্ন ৩০২১ দাগে মোট ৯২ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬৩-৬৪ সালে ভূমি দখল হুকুম মুলে সরকার ৪৫ শতক জমি নিয়ে নেয়। এবং বাকি ৪৭ শতকের মধ্যে ৪৫ শতাংশ জমি গত ৩১/০৫/১৯৬৬ সালে কেশবা মৈাজার মৃত ওসমান গনির ছেলে মৃত জয়েনউদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে ৫০৭১/৬৬ দলিল মুলে থানা কাউন্সিল ক্রয় করে। বাকি দুই শতক জমি কিশোরগঞ্জ টেংগনমারী সড়কের জন্য ছেড়ে দেয়। কিন্তু ওই জমিতে গত ২০০৯/১০ সালে পিএসসির সাবেক সদস্য প্রফেসর মাহফুজার রহমান একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করলে ১/১১র সময় তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে সরকার বিল্ডিং নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করে বিল্ডিংটি ভাংগা শুরু করলে পিএসসির সদস্য প্রফেসর মাহফুজার রহমানের ভাই মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে একটি রিট করলে হাইকোর্টের এক আদেশে ভবন ভাংগা স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে। কিন্তু মামলা চলমান থাকা অবস্থায় চারতলা ভবনের পাশে ফাঁকা জায়গায় নতুন করে পাঁকা ঘর নির্মাণ শুরু করেন পুটিমারী ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলাম । সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি আমার কেনা সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করছি। পাশাপাশি প্রশাসনিক হয়রানী এড়াতে হাইকোর্টে রিট করেছি। যাহার রিট নম্বর ৪০৯৭।
কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম আনিছ বলেন, কিশোরগঞ্জ বাজারের গরু হাটির ভিতরে ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৭ নম্বর দাগে ৭ শতাংশ জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন উপজেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা। বর্তমানে ওই নেতা উপজেলা জার্তীয় পাটিতে যোগদান করেছেন। ওই জমি উদ্ধারের বিষয়ে বার বার উপজেলা প্রশাসকে অবগত করলেও প্রশাসন সরকারী জমি উদ্ধারে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করছেনা।
অপর দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ৭৪ শতক জমির উপর লিপ্রোসি কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে লিপ্রোসি কেন্দ্রটি পরিত্যাক্ত থাকার কারনে সেই জমি দখল করে বাস মিনিবাস শ্রমিক অফিস, কোচিং সেন্টার ও ওয়েলডিং কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। সম্প্রতি ওই সম্পত্তিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু সেখানে নির্মিত রিকসা শ্রমিক অফিস ঘর সংস্কার করার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই স্থাপনা সরাতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু শফি মাহমুদ বলেন , আমি লিপ্রোসি কেন্দ্রটি পরিদর্শন পুর্বক দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের জন্য লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। তারা জমি উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ আবুল কালাম বারী পাইলট বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি মুর‌্যাল তৈরী করার জন্য জায়গা খুঁজে পাচ্ছিনা। অথচ উপজেলা পরিষদের জমিসহ অন্যান্য সরকারী জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তি। আমি চাই প্রশাসন সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধ দখলদারের হাত থেকে রক্ষা করুক।
অবৈধভাবে দখলকৃত সরকারী জমি উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জেসমিন নাহার বলেন, কেউ যদি সরকারী জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে থাকে তাহলে নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত পুর্বক আইননানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *