দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

তারুণ্য-অভিজ্ঞ’তার মিশেলে বিশ্বকাপ বাহিনী

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তারুণ্য-অভিজ্ঞ’তার মিশেলে বিশ্বকাপ বাহিনী।। করোনাভাইরাসে জেরবার সারা দুনিয়া। তবুও থেমে নেই ক্রিকেট। ধীরে ধীরে মহামারির গ্রাস থেকে বের হয়ে প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্বকাপ উৎসব আয়োজনে।’

অক্টোবর-নভেম্বরে দুবাই ও ওমানে বসবে বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির আসর। মরুর বুকে চার-ছক্কার ঝড় তুলতে প্রস্তুত বাংলাদেশও। গতকাল ১৫ সদ’স্যের টাইগার বাহিনী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

রাখা হয়েছে দু’জন স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটারও। কারা থাকছেন দলে! কাদের নিয়ে উড়বে বাংলাদেশের আশার বেলুন সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে গত’কাল।,

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে দলে জায়গা করে নিয়ে’ছেন ৮ নতুন মুখ, যারা আগে দেশের হয়ে কোনো বিশ্বকাপেই খেলেনি। যাদের সঙ্গে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীমের মতো অভিজ্ঞ যোদ্ধারাও লড়াই করবেন সমান’তালে।

তবে দল ঘোষণার আগেই আরেক পরী’ক্ষিত যোদ্ধা তামিম ইকবাল নিজেকে সরিয়ে নেয়াতে তার অভাবটা থেকেই যাবে। যদিও তারুণ্য আর অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিয়ে দারুণ আশা প্রধান নির্বাচক মিনহজাজুল আবেদিন নান্নুর।।

গতকাল দুপুরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসেন দুই সহ’যোগী নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে। দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘এই ১৭ জনের স্কোয়াড আমরা নির্বাচক প্যানেল যথেষ্ট আত্ম’বিশ্বাসী এই দলের ওপর। কারণ, আমরা জিম্বাবুয়ে থেকে ধারাবাহিকভাবে এ দল নিয়েই তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছি জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

এবং আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা হোমে প্রায় সব সাদা বলের সিরিজে জিতেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এ ধারাবাহিকতা রেখে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আমাদের দল ভালো করবে।’ একেবারে তরুণদের মধ্যে দলে জায়গা করে নিয়েছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও শরিফুল ইসলাম।,

সবশেষ দেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলে খেলেন তারা। এবার নাম লিখিয়েছেন বড়দের বিশ্বকাপেও। ২১ বছর বয়সী মারকুটে ব্যাটসম্যান ও অফ স্পিনার শামীম এখন পর্যন্ত ৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে অভিষেক হয় তার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৫ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বড় ভূমিকা রাখেন দলের জয়ে।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ’জয়ী দলের সদস্য শামীম এখন পর্যন্ত ৩৬ টি-টোয়েন্টিতে প্রায় দেড়শ’ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৫০৬ রান। একমাত্র ফিফটিতে অপ’রাজিত ছিলেন ৫২ রানে। এই তরুণকে নিয়ে দারুণ আশা প্রধান নির্বাচকের।

তিনি বলেন, ‘শামীমকে জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে দলে রাখছি। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলে এসেছে, আমাদের হাইপারফর’ম্যান্স ইউনিটে রেখে যথেষ্ট নার্সিং করা হয়েছে ওর।

আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, ও যে স্টাইলে খেলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ও যথেষ্ট ভালো খেলবে। আমরা নির্বাচক প্যানেল ওর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।’

এ ছাড়াও প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি হাসান ও নাসুম আহমেদ। চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজের ১৯ সদস্যের দল থেকে বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পাননি মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম।

আর অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব আছেন অপেক্ষ’মাণ তালিকাতে।’

এ ছাড়াও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব ও মুশফিক ২০১৭ থেকে দেশের হয়ে খেলেছেন সবগুলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দল নিয়ে সবদিক বিবেচনা করা হয়েছে বলেই জানি’য়েছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স’সহ সব’দিকই দেখা হয়। পাশা’পাশি এটাও বিবেচনা করা হয় যে বিদেশে কে কেমন করতে পারে। কারণ, দেশে আমরা এক ধরনের উইকেটে খেলি, বিদেশে আরেক ধরনের উইকেট-কন্ডিশন। সবকিছুর সামঞ্জস্য করে দল গড়া হয়।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ খেলবে ওমানে। গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৭ই অক্টোবর, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। পরের দুই ম্যাচে বাংলা’দেশের প্রতিপক্ষ ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি।,

এই পর্ব উতরাতে পারলে সুপার টুয়েলভ-এ বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী হবে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ! বিশেষ করে দেশের মাটিতে শেষ দুই সিরিজে মোটেও ভালো ব্যাটিং প্রস্তুতি হয়নি টাইগার’দের।

তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে বিশ্বকাপ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল লো স্কোরিং। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই চিত্র। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হতে প্রায় এক মাসের মতো সময় আছে। সেদিক থেকে বিল্ডআপ বা রিফ্রেশিংয়ের যথেষ্ট সময় আছে।

আমিও একজন ব্যাটস’ম্যান ছিলাম যদি নিজে পরিকল্পনা করে একটা সিস্টেমের মধ্যে যাওয়া যায় অবশ্যই ভালো করতে পারবে।’

অন্যদিকে টাইগার’দের এই বিশ্বকাপ দল কোটি মানুষের আশার মশাল নিয়ে কতোটা যেতে পারবেন তা নিয়ে আছে প্রশ্ন। আসরে কতো দূর গেলে সন্তুষ্ট বলবেন নির্বাচকরা!

এ বিষয়ে সরা’সরি কোনো উত্তর দেননি প্রধান নির্বাচক। একটু একটু করেই তিনি লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চান বলেই জানান সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় হলো প্রথম রাউন্ডটা। এটা শেষ করার পর পরিকল্পনা করা হবে কতটুকু যেতে পারবো।

আমরা ওমানে গিয়ে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ যখন খেলবো তখন থেকে বিশ্বকাপের বিষয়টা শুরু হবে যে কতদূর যেতে পারবো। এখান থেকে কিছু বলা মুশকিল।-দেশবানী নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *