দেশ বাণী ডেস্ক

ধর্মীয় আবেগ’ পুঁজি করে১৭ হাজার কোটি টাকাহাতিয়ে নেয়া এহসান গ্রুপচেয়ারম্যান রাগীবআহসান গ্রেপ্তার

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পিরোজপুর প্রতিনিধি।।

ধর্মীয় আবেগ অনুভূতিকে পুঁজি করে শরিয়ত সম্মতসুদবিহীন বিনিয়োগের কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায়১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এহসান গ্রুপেরচেয়ারম্যান রাগীব আহসান। আজ শুক্রবার বিকেলেকারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়াউইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এসব প্রতারণার অভিযোগে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যানরাগীব আহসান (৪১) ও তার সহযোগী মো. আবুল বাশারখানকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। তিনি ১৭টিপ্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। রাগীবআহসানের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে বলেজানিয়েছে র্যাব। তিনি লাখ টাকার বিনিয়োগে মাসিকমাত্রাতিরিক্ত টাকা প্রাপ্তির প্রলোভন দেখিয়ে ২০০৮ সালে ১০হাজার গ্রাহককে যুক্ত করেন। এখন তার গ্রাহকের সংখ্যাপ্রায় লক্ষাধিক।

ধর্মীয় আবেগ পুঁজি

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দাশাখা ও র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীরশাহবাগ থানার তোপখানা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়েতাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভাউচার বইও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি এমএলএম কোম্পানির নামে বিপুলপরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায়মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিতহয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই প্রতারণার ঘটনা প্রচারহলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্য ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বেশকয়েকজন ভুক্তভোগীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেঅভিযোগ করেন। ফলে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে ওগোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে রাজধানীর তোপখানারোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, রাগীব আহসান ১৯৮৬ সালেপিরোজপুরের একটি মাদরাসায় অধ্যয়ন শুরু করেন।পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত হাটহাজারীরএকটি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস ও ১৯৯৯ থেকে২০০০ পর্যন্ত খুলনার একটি মাদরাসা থেকে মুফতি সম্পন্নকরেন।

 এরপর তিনি পিরোজপুরে একটি মাদরাসায় চাকরিশুরু করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৭ সালে তিনি ইমামতিরপাশাপাশি এহসান এস মাল্টিপারপাস নামে একটিএমএলএম কোম্পানিতে ৯০০ টাকা বেতনের চাকরিকরতেন। মূলত এই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে এমএলএমকোম্পানির প্রতারণা রপ্ত করেন। পরবর্তীতে নিজে ২০০৮সালে এহসান রিয়েল এস্টেট নামে একটি এমএলএমকোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, তার এমএলএম কোম্পানিতেপ্রায় ৩০০ কর্মচারী রয়েছেন। যাদেরকে কোনো বেতন দিতেননা রাগীব। কর্মচারীরা মাঠ পর্যায় থেকে বিনিয়োগকারী গ্রাহকসংগ্রহ করে থাকেন। তাদেরকে গ্রাহকের বিনিয়োগের ২০শতাংশ অর্থপ্রাপ্তির প্রলোভন দেখানো হয়েছে। এভাবে তিনিদ্রুত গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধিতে সক্ষম হন।’

তিনি কত টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং এই টাকা জঙ্গিকর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতো কি-না বা বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিরকাজে ব্যবহৃত হতো কি-না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নেরউত্তরে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিভিন্নভুক্তভোগীর তথ্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতেআনুমানিক তিনি ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেনবলে ধারণা করা হচ্ছে। আত্মসাৎ করা টাকা জঙ্গি কর্মকাণ্ডেব্যবহার হয়েছে কি-না বা উসকানির কাজে ব্যবহৃত হতো কি-না সেটি গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থানেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু টাকারবিষয়টি জড়িত তাই এ বিষয়ে দুদক ও সিআইডি ব্যবস্থানেবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকজিজ্ঞাসাবাদে রাগীব আহসান জানান, তিনি ১৭টিপ্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোহলো- (১) এহসান গ্রুপ বাংলাদেশ, (২) এহসান পিরোজপুরবাংলাদেশ (পাবলিক) লিমিটেড, (৩) এহসান রিয়েল এস্টেটঅ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড, (৪) নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনালক্যাডেট অ্যাকাডেমি, (৫) জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহানমহিলা মাদরাসা, (৬) হোটেল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল(আবাসিক), (৭) আল্লাহর দান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *