দেশবানী

” যাত্রী অধিকার দিবস “

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে পদক্ষেপ চাই

এম মনির চৌধুরী রানা

আমি আপনি এই নগরীতে প্রতিদিনের যাতায়াতে সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্যের মুখোমুখি হচ্ছি। ভাড়া নৈরাজ্যর পাশাপাশি পিকআওয়ারে দরজা বন্ধ করে বাসচলাচলের কারনে মাঝপথের যাত্রীরা রোধবৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ী পায়না। একই দুরত্বে একেক বাসে একেক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার সিটিং সার্ভিস গাড়ীর গায়ে লিখে সরকার নিধার্রিত ভাড়ার দিগুন, তিনগুন কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ গুন পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে । আবার এইসব চিটিং বাসে বাদুড়ঝোলা করে যাত্রীও বহন করা হচ্ছে। একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, তথা এইসব সিটিং গাড়ীতে দাড়িয়ে যাত্রী বহনের কারনে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সাথে প্রায়শ বশচা, হাতাহাতি-মারামারি ঘটনাও ঘটছে। কিছুদিন যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ বা পুলিশ কারো কোন সহযোগিতা না পেয়ে এক সময় এই নৈরাজ্যর কাছে যাত্রীরা আত্বসমর্পন করতে বাধ্য হয়েছে।
ঢাকা মহানগরীর যাত্রী সাধারনের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষন উপ-কমিটির ৫ সদস্যের একটি টিম বিগত ২০১৭ সালে আগষ্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসব্যাপী নগরীতে চলাচলরত ১০৩০টি বাস-মিনিবাসের যাত্রী সেবা, গাড়ীর অবস্থা, ভাড়া, পারিপাশ্বিক অবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষনের পাশাপাশি চালক, হেলপার, যাত্রী, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিআরটিএ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকার কর্তৃক বাস ও মিনিবাসে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। ঢাকা মহানগরীতে বাস ভাড়া (ব-সিরিজ) প্রতি কিঃমিঃ ১.৭০ টাকা ও মিনিবাস ভাড়া (জ-সিরিজ) প্রতি কিঃমিঃ ১.৬০ টাকা নির্ধারন করা আছে। সর্বনিম্ম ভাড়া ৩ কিঃমিঃ পর্যন্ত বড় বাসে ৭ টাকা, মিনিবাসে ৫ টাকা হলেও নগরীতে চলাচলরত ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের সাথে জড়িত। তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়া বা সর্বনিম্ম ভাড়া কিছুই মানেন না। নামমাত্র কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়না। বিভিন্ন বাস কোম্পানী কর্তৃক তাদের পরিবহনের জন্য কোম্পানি কর্তৃক প্রণীত ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার চার্ট অনুসরন করে ভাড়া আদায় করা হয়। অথবা বাসে উঠার সময় হেলপারের মূখে উচ্চারিত ভাড়া এখানে আদায় করা হচ্ছে। এই কারনে সরকারের ভাড়া নির্ধারনের আইনগত যোগ্যতা এখানে চরমভাবে প্রশ্নের সম্মূখীন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষনে আরো দেখা গেছে, সরকার বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারনে ২১টি বিষয় বিবেচনায় আনেন। এসব বিষয়ের মধ্যে গাড়ীরমূল্যসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অনান্য আনুসাঙ্গিক উপকরনের মূল্য ও মুনাফা ধরা হয় মালিকদের মর্জি মত। কেননা বিগত সময়গুলোতে বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মালিক-শ্রমিক-সরকার মিলেমিশে। এখানে যাত্রী প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যাত্রীদের মতামত বা রার্গেনিং এর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক ক্রেতা ভোক্তা অধিকার আইনের সরাসরি লংঘন। ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস লক্কড়-ঝক্কড়। যেগুলো গড় ক্রয় মূল্য ৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। এগুলোকে নতুন বাস হিসেবে ৩৬ লক্ষ টাকা ক্রয় মূল্য, সোয়া ১১ লক্ষ টাকা ব্যাংকের সুদসহ ৪৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিটি বাসের ক্রয় মূল্য ধরে ভাড়া নিধার্রণ করা হয়েছে। এইসব গাড়ীতে যাত্রী যাতায়াতের গড় বোঝাই ধরা হয়েছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিটি বাস-মিনিবাস সিটিং হিসেবে যাতায়াত করবে। প্রতিটি ৫০ আসনের বাসে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে বাকি ১০ সিট খালি রেখে চলাচল করবে এটাই ভাড়া নিধারণের মূল কাঠামো।
দেখুন মালিক, শ্রমিক, সরকার মিলেমিশে তাদের মর্জিমতো ভাড়া নির্ধারণ করলো। যাত্রী প্রতিনিধি বা যাত্রীদের মতামত দেয়ার সুযোগ দিলোনা। বাগেনিং করতেও দিলনা। এতে করে ৭ লক্ষ টাকার বাসের দাম ৪৭ লক্ষ টাকা ধরলো। যেখানে বাদুর ঝোলা করে যাত্রী নেয়া হয় সেখানে ৮০% গড় বোঝাই ধরা হলো। দৈনিক ১২০০-১৫০০ টাকা সিএনজি জ্বালানী খরচের স্থলে ২৯০০ টাকার সিএনজি খরচ, মাসে ৫ লিটার মুবিল এর স্থানে ৩০ লিটার মুবিল খরচ, ৬০০ টাকার সাধারণ ইন্সুরেন্স এর স্থলে ৬০,০০০ টাকার কম্পিহেন্সিভ ইন্সুরেন্স ধরে ভাড়া নির্ধারণ করলো। প্রতিটি বাসে এখন ১জন চালক ও ১ জন হেলপার ২ জনে বাস অপারেট করলেও ভাড়া নির্ধারণে ১ জন চালক, ৩ জন সুপারভাইজার, ৩ জন হেলপারের দৈনিক বেতন যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করলেন। এভাবে নানা খাতে অত্যাধিক খরচ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরে যাত্রী ভাড়া একছেটিয়া ভাবে ভাড়ানোর পরও এই ভাড়া তারা মানছেনা ।
অন্যদিকে, এসব গাড়ীতে বাহারী রংঙের সুন্দর সুন্দর সিটিং সার্ভিস, গেইটলক সার্ভিস ষ্টিকার লাগানো থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এই গাড়ীগুলো চলতে চলতে বয়সের ভাড়ে ন্যুজ। বহু বছর আগে এই গাড়ী গুলোর ইকনোমিক লাইফ শেষ হয়েছে। এসব গাড়ীর হাড্ডী- মাংস কিছুই নেই। ভেতরের অবস্থা আরো খারাপ। কোন কোন বাসে ৫/৭ টি পর্যন্ত আসন ভেঙ্গে গেছে বহু আগে। ফ্যান নেই, দরজা, জানালার কাঁচ ভাঙ্গা। পাদানী নষ্ট, দুই সিট এমনভাবে তৈরী যাতে ২ জন যাত্রী বসা যায়না। সিটের কুশন নেই। কোন কোন বাসে যাত্রীদের মেরুদন্ড সোজাকরে বসতে হয়। প্রতিটি বাসে অতিরিক্ত আসন সংযোজন করা। চালকের পাশে ইঞ্জিনের উপর নারী ও শিশুর জন্য ১০ টি আসন বসানো। কোন বাসে হেন্ডেল ভাঙ্গা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বালায় নেই। অপরিচ্ছন্ন নোংরা আসনে যাত্রীরা বসতেই কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। সিট বা পাশ্বের প্লেট খুলে যাত্রীর শরীলে বিদছে। সিট থেকে উঠতে কাপড় ছিড়ে যাচ্ছে। ৫২/৬০ আসনের বড় বাসে ২ টি দরজা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত এইসব বাসগুলো এক দরজায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝুকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে। এইসব বাসে একটি দরজা হওয়ায় এবং দরজাটি গাড়ীর সামনের অংশে থাকায় বয়স্ক, অসুস্থ, নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধিরা অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পড়ছে। পিছনের আসনে বসা একজন যাত্রী জরুরী নামার প্রয়োজন হলে নামতে পারেনা। বছরের পর বছর চলতে থাকা এইসব অনিয়ম দুর করতে কেউ এগিয়ে আস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *