দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

নবাবগেঞ্জর দৃষ্টিন্দন ও নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌদর্য্য ভরা আশুরার বিল উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ৩ বছর

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর) নববাগঞ্জ (দিনাজপুর)।।

২০১৭ সালে। উপজেলা মৎস সপ্তাহ উদ্দযাপন উপলক্ষ্যে সংবাদকর্মীদর নিয়ে মত বিনিময় ডেকেছিলেন সে সময়ের উপজেলা মৎস কর্মকর্তা শামীম আহমম্মেদ। আশুরার বিলের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলােকপাত করেন মৎস কর্মকর্তা। তিনি জানান, উত্তর জনপদের দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনার স্থান আশুরার বিল। মতবিনিময় সভায় সে সময় প্রথম আলাের বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি প্রভাষক এ এস এম আলমগীর জানান, বিলের মাঝে কচুরীপানা সহ বাঁশের খুঁটি দিয়ে আলাদা আলাদা প্লট করে মাছ চাষ করে মৎস চাষীরা।

অথচ বিলটি সবসময় থাকব উন্মুক্ত। ওই জলাশয় থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করবে মৎস চাষীরা। সেখান আইল দিয়ে দখলের পায়তারা কন? এমন জিজ্ঞাসা গণমাধ্যম কর্মী আলমগীরের। ওই বৈঠক থেকেই সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে জানানো হলেও তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। এরপর মােঃ মশিউর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

সে সময় নবাবগঞ্জ উপজলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রুহুল আমিন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর) সহ বিলের অবইধ স্থাপনা সহ কচুরীপানা অপসারণের জন্য ইউএনওকে জানানা হলে তিনি শুক্রবার বন্ধর দিনে আশুড়ার বিলে কচুরিপানা পরিস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিলে নেমে পড়লেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক আশুড়ার বিলে এ অভিযান চালান তিনি।এক সময়ের লাল-সাদা শাপলা ও পদ্ময় ভরপুর দৃষ্টিনন্দন বিলটি অবৈধ দখলদারদের দাপটে হারিয়ে ফেলেছে সৌন্দ্যর্য্য। বাঁশের বেড়া আর কচুরিপানা দিয়ে বিলটি ভরে গেছে। তাই বিল পরিস্কার ও দখলদারদের হাত থেকে আশুড়ার বিলকে উদ্ধারের জন্য সপ্তাহজুড়ে নির্দেশ দিছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান ।

তিনি যেভাবে চাইছিলেন ঠিক সেভাবে কাজটি হচ্ছিল না। তাই শুক্রবার নিজেই নেমে পড়লেন বিলে। এক টানা সাড় তিন ঘণ্টা বিলের কাদাপানিতে থেকে পরিস্কার করলেন কচুরিপানা। উচ্ছেদ করলেন অবৈধ স্থাপনাসহ। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিলে নামতে দেখে স্থানীয় জনসাধারণসহ রাজনৈতিক নেতারাও নেমে পড়েন বিলে। তারাও যােগ দেন পরিস্কার পরিছন্নতার কাজে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ৩৬০ হেক্টর এলাকাজুড়ে আশুরা বিল। এখানে দেশীয় মাছ লাল খলশে, কাকিলা, ধলসহ বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির বিভিন মাছ পাওয়া যায়। অভিযান অংশে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, একজন ইউএনও বিলের কাদাপানিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে কচুরিপানা পরিস্কার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন তা স্বপ্নেও ভাবিনি।,

তিনি বলন, ঐতিহ্যবাহী বিলটি এক সময় উত্তরাঞ্চলের ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান ছিল। দখলদারদের কারণে বিলটি ঐতিহ্য হারিয়েছে। এটি রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় লােকজনের ছিল। ইউএনও মশিউর রহমানের ব্যতিক্রমী অভিযানে তাদের চােঁখ খুলে দিয়েছে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, জাতীয় উদ্যানের পাশ দিয় বয়ে যাওয়া এ বিলটি দেশের অমূল্য সম্পদ।

এক সময় এ বিলজুড়ে ফুটতো লাল-সাদা শাপলা ও পদ্ম ফুল। শীতে অতিথি পাখিরা আসত। পাখির কলরবে মুখরিত থাকত এই এলাকা। কি দীর্ঘদিন থেকে এক দল প্রভাবশালী বিলটি দখল নিয়েছিল। বিলটিকে বাঁশের বেড়া, মাচা দিয়ে অসংখ্য ভাগে ভাগ করে ফেলেছিল। কচুরিপানায় ভরে গিয়ছিল পুরাে বিল। হারিয়ে গেছে শাপলা, পদ্ম ফুল। শীতকালে ধান চাষ করায় ফসলে কীটনাশক ব্যবহারে হারিয় গেছে বহু দেশি প্রজাতির মাছ।

অতিথি পাখি আর আসে না। এরপর অতিথি পাখিদের নিরাপদে রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ সে সময়ের দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকারর মাধ্যমে বেশ কিছু মাটির হাাঁড়ি গাছে গাছে ঝুলিয় দেয়া হয়। এরপর বিলের কচুরীপােনা অপসারণের পর ইউএনও শাপলা সহ শােভাবর্ধনের বিভিন জাতের ফুলের চারা বন বিভাগের মাধ্যমে রােপনের কাজ শুরু করেন। কাঠের সেতু নির্মাণর পরিকল্পনা


বিলের পর্যটকদের আগমন ঘটাতে ও বিলকে দষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলতে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে শালবন পর্যন্ত আঁকাবাঁকা কাঠের সেতু নির্মানের প্রস্তাব রাখেন এ এস এম আলমগীর এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর)। অর্থ বরাদ্দ এক টাকাও নেই। কি করে সম্ভব? সাহসীকতার কাছে কােনভাবেই হার মানলেন না উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

আমার জানা আছে আলমগীর কাজটি শুরুর জন্য ৫০হাজার টাকা কর্য দিয়েছিল। এ অর্থই হাতে খড়ি। আঁকাবাঁকা সেতুটি করতে চায়নি সে সময়ের সরকারি ২ কর্মকর্তা। বন্ধ ছিল পরিকল্পনার ফাইল এক মাস। এরপর শুরু হল কাঠ ক্রয় শুরু হল সেতু নির্মাণের কাজ। স্থানীয় তানভীর আহম্মেদ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী শ্রোমিক নেতা মােম মতিবুর রহমান কে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব ভার দেয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শেষ করে সেতু নির্মানের কাজ। এরপর আনুষ্ঠানিক ভাব সেতুটি উদ্ভোধনের উদ্যোগ গ্রহন করে উপজেলা প্রশাসন।

এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ শিবলী সাদিক এর নির্দেশে সেতুটির নাম দেয়া হয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা কাঠের সেতু। ঘটা করে রং বার্ণিশ শেষে উদ্ভোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্ভোধন করেন সংসদ সদস্য মোঃ শিবলী সাদিক। এসময় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম সহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উদ্ভোধনের পর থেকেই ব্যপক পর্যটকদের আগমন ঘটে এক নজরে দেখতে কাঠের সেতুটি।

২০১৯-২০ সাল পর্যন্ত আশুরার বিলের শেখ ফজিলাতুনেছা সেতুটি গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় ছিল ব্যাপক এগিয়ে। এরপর নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হতে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিপি) এর অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করা হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মােঃ আতাউর রহমান জানান, আশুরার বিলে দেশের পর্যটকদের ইতমধ্যই আকষ্ট করেছে। উপজেলা পরিষদ থেকে সার্বিক বিষয়ে সহায়তার আশস্বাস জানান তিনি।

শুরু হল উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। দিন যায় জাতীয় উদ্যান সহ বিলের অবকাঠামাে উন্নয়ন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে ৬০লাখ টাকা বরাদ্দ গড়ে তােলা হয় পর্যটকদের বসার জন্য পৃথক তিনটি স্থান গােলঘর, অত্যাধুনিক শৌচাগার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পােরেশন (বিএডিসি) অর্থয়েন বিলের পূর্বদিক রাবার ক্রস ড্যাম নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও ২০২১ সালে ৬ আসনের সংসদ সদস্য মােঃ শিবলী সাদিকের পরামর্শে ‘‘জােসনা বিলাস’’ নামের ভিআইপি দুটি বিশ্রামাগ্রার নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সেটিও দেখতে আসেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মােহাম্মাদ জাকী। বিলে নতুন সংযােজন এ বিশ্রামাগারে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সােম জানান, বর্তমানে শরতের ঋতুতে নতুনভাবে সেজেছে আশুরার বিল। এ সৌদর্য্য আরও বৃদ্ধি করতে সংস্কার সহ রং বার্ণিশ করা হয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা কাঠের সেতু। আর যোগ হয়েছে ভিআইপি ‘‘জোসনা বিলাস’’ বিশ্রামাগার। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেফাউল আজম জানান, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে হেরিং বন্ড সহ এলজিইডির অর্থায়নে রাস্তা কার্পেটিং সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট নির্মিত ইটের সলিং রাস্তার উদ্ভোধনও করেন জেলা প্রশাসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *