দেশ বাণী ডেস্ক দেশজুড়ে

তিস্তায় বান ও ভাঙনে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ:বানের পানি নামছে, বাড়ছে দুর্ভোগ

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক।। তিস্তায় বান ও ভাঙনে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ:বানের পানি নামছে, বাড়ছে দুর্ভোগ।নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত দু’টি ইউনিয়নে শুক্রবার (২২শে অক্টোবর) বিকাল ৫টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আওতায় সাম্প্রতিকালে আকস্মিক তিস্তা নদীর ভয়াবহ বন্যায় নদী ভাঙ্গন ও পানিবন্দি
ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মাঝে প্রতি প্যাকেটে চাল ১০ কেজি, ডাল, লবন, চিনি, সয়াবিন তেল, মরিচের গুড়া, হলুদ, ধনিয়া গুড়া ত্রাণ বিতরণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অঃদাঃ) মোঃ মাহবুব হাসান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মো. এনামুর রহমান এবং নীলফামারী-১ সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আফতাব উদ্দিন সরকার (এমপি) সময় স্বল্পতা ও অসুস্থ্যতার কারনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাহারুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, ডিমলা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ারুল হক সরকার, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল লতিফ খাঁন, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ময়নূল হক, বালাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম ভুইয়া, সহ প্রমুখ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ধনী সরকার। কোনো অভাব নেই বর্তমান সরকারের আমলে। দুর্যোগ মোকাবেলায় ৫০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রয়েছে এখনো। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষ সরকারের সহায়তা পাবেন ও তাদের দ্রুত পুনর্বাসন করা হবে।

শুক্রবার(২২ অক্টোবর)আটটার দিকে নীলফামারী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী বলেন, উজানের ঢলের ফলে যেসব মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাদের নতুন করে ঘর করে দেয়া হবে।

বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পূর্ণবাসন ও স্থায়ী ভাবে বাঁধ নির্মানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য ৪৯মেট্রিক টন চাল ও ১০লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও প্যাকেটজাত শুকনো খাবার, শিশু ও পশু খাদ্যও দেওয়া হবে।

তিস্তায় বান ও

আজ ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে ৩০০টি পরিবার ও পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাকি ইউনিয়ন গুলোতেও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

বন্যা দুর্গতরা বলছেন,ধীরলয়ে বানের পানি নামছে। বাড়ছে নদীভাঙন। হাজারো বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। খাদ্য নেই, আশ্রয় নেই,। বন্যা দুর্গত এলাকায় বহিরাগতদের আসতে দেখলেই বুভুক্ষু মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

উল্লেখ্য পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ভারত থেকে ধেয়ে আসা উজানের ঢলে উপজেলার ৪টি বাঁধ ভেঙে ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়। প্রায় ১৬০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *